রমজান আসন্ন

আমদানি বাড়লেও দেশে এখনো অস্থিতিশীল ছোলার বাজার

খাতুনগঞ্জে বর্তমানে খুচরায় প্রতি কেজি ছোলা ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী

দেশে গত এক মাসে সব ডালজাতীয় পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে কমেছে। তবে এ সময় আমদানি বাড়লেও এখনো স্থিতিশীলতায় ফেরেনি ছোলার বাজার। এক সপ্তাহ ধরে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি হওয়া ছোলা পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৯৭-১০৮ টাকায়। গত বছর রোজায় দেশের বাজারে প্রতি কেজি ছোলার দাম ছিল ৭৫-৮৫ টাকা। গতকাল দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

খাতুনগঞ্জে বর্তমানে খুচরায় প্রতি কেজি ছোলা ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারে ছোলার পর্যাপ্ত আমদানি হচ্ছে। মূলত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো দাম না কমানোয় এর প্রভাব বাজারে পড়েনি। এছাড়া রোজা শুরুর আগেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রয়াদেশ আসতে শুরু করেছে। এটিও দাম বাড়ার উল্লেখযোগ্য কারণ।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের মেসার্স হক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী আজিজুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজার থেকে কম দামে ছোলা সংগ্রহ করছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আমদানির সঙ্গে মুষ্টিমেয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত। তাই দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।’

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা আরো জানান, বর্তমান বৈশ্বিক বাজারের হিসাবে প্রতি টন ছোলার বুকিং দর ৬৫০-৬৭০ ডলার। বর্তমান ডলার মূল্যের হিসাবে তা দেশে কেজিতে ৮৫-৯০ টাকা হওয়ার কথা। মৌসুমভিত্তিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও মুষ্টিমেয় কয়েকটি ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের মজুদ প্রবণতার কারণে রোজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোগ্যপণ্যটির দামে অস্থিতিশীলতা দেখা যায়।

দেশে অস্ট্রেলিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি ছোলা আমদানি হয়। এছাড়া বর্তমানে তাঞ্জানিয়ার ছোলা ভারত হয়ে দেশে আসছে। একেএস, আকিজ, সিটি, নাবিলসহ বেশ কয়েকটি শিল্প গ্রুপ ছোলা আমদানি করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানিকারকদের কাছ থেকে ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান ও বড় পাইকারি ব্যবসায়ীরা ছোলা ক্রয় করে বাজার চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করে। তাই স্থিতিশীলতায় ফিরতে বিলম্ব হচ্ছে।

দেশে মাসভিত্তিক ছোলার চাহিদা গড়ে ১২-১৫ হাজার টন। তবে রমজান মাসে চাহিদা ৮-১০ গুণ বেড়ে যায়। এ কারণে প্রায় প্রতি বছরই পণ্যটির বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়িক মুনাফার প্রতিযোগিতা তৈরি হয় বাজারে।

এদিকে জানা গেছে, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ডাবলি বা অ্যাংকরের দাম ৫৭-৫৮ টাকায় নেমে এসেছে। সাধারণত ডাবলির সঙ্গে ছোলার দামের পার্থক্য থাকে প্রায় ‍২০ টাকা। বর্তমানে তা প্রায় ৪০ টাকায় পৌঁছেছে।

কালুরঘাট এলাকার মেসার্স মালতী এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সঞ্জয় দে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা গত বছরের তুলনায় ১৫-২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের চাহিদা বিবেচনায় পণ্যটির দাম আরো কমানো প্রয়োজন। এর জন্য সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নজরদারি দরকার।’

আরও